বাংলা ব্যাকরণে 'গুণ' ও 'বৃদ্ধি' বলা হয় স্বরবর্ণের বিশেষ পরিবর্তনকে, যা মূলত সন্ধি বা প্রত্যয় যোগ করার সময় ঘটে। এগুলোকে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মানুসারে স্বরধ্বনির রূপান্তর বলা হয়।
নিচে এদের সহজ পরিচয় দেওয়া হলো:
১. গুণ
শব্দের মূল স্বরধ্বনির পরিবর্তে যদি নির্দিষ্ট অন্য স্বরধ্বনি হয়, তবে তাকে গুণ বলে।
- ই/ঈ স্থানে এ হয় (যেমন: নী + অ = নয়, কিন্তু মূলগতভাবে এটি এ-কার)।
- উ/ঊ স্থানে ও হয়।
- ঋ স্থানে অর হয়।
- উদাহরণ: কৃ + অ = কর (এখানে ঋ-কার 'অর' হয়েছে)।
২. বৃদ্ধি
শব্দের মূল স্বরধ্বনির আরও ব্যাপক বা দীর্ঘতর পরিবর্তনকে বৃদ্ধি বলে।
- অ স্থানে আ হয়।
- ই/ঈ/এ স্থানে ঐ হয়।
- উ/ঊ/ও স্থানে ঔ হয়।
- ঋ স্থানে আর হয়।
- উদাহরণ: দিন + অক = দৈনিক (এখানে ই-কার 'ঐ' হয়েছে), কৃ + ঘঞ = কার্য।
এককথায়: তদ্ধিত প্রত্যয় বা সন্ধির ক্ষেত্রে স্বরবর্ণের যে রূপান্তর ঘটে, তাকেই ব্যাকরণে গুণ ও বৃদ্ধি বলা হয়।