সমার্থক শব্দ বলতে এমন শব্দ বা শব্দগুচ্ছকে বোঝায়যেগুলোর উচ্চারণ ও বানান ভিন্ন হলেও অর্থের দিক থেকে মূল শব্দের সাথে মিল বা অভিন্নতা থাকে। একই অর্থ প্রকাশকারী ভিন্ন ভিন্ন শব্দকে প্রতিশব্দও বলা হয়। এগুলো ভাষার সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করে।
নিচে গুরুত্বপূর্ণ সমার্থক শব্দের উদাহরণ দেওয়া হলো:
-পুত্র= ছেলে, তনয়, সুত, নন্দন, আত্মজ, সূনু, দুলাল, অঙ্গজ, কুমার, কুমার
-অর্ঘ্য=পূজার উপকরণ
-পদ্ম= কমল, পঙ্কজ, শতদল, সরোজ, উৎপল, নলিনী, অরবিন্দ, রাজীব, তামরস, অম্বুজ
-বাতাস=বায়ু, হাওয়া, পবন, অনিল, সমীর, সমীরণ, মারুত, গন্ধবহ, মরুৎ, প্রবহণ
-কল্লোল= ঢেউ, তরঙ্গ, হিল্লোল, লহরী, ঊর্মি (উর্মি)
-কবুতর=পায়রা, কপোত, পারাবত, কপোতী
-গাছ=বৃক্ষ, তরু, উদ্ভিদ, শাখী, বিটপী, নগ, মহীরূহ, পাদপ, বনস্পতি, তরণী
-স্বর্গ= সুরলোক, অমরাবতী, দেবলোক, দ্যুলোক, ত্রিদিব, বেহেশত, নন্দনকানন, স্বর্লোক, পরলোক, ইন্দ্রালয়
-হাতি=হস্তী,গজ, কুঞ্জর,করী, বারণ, মাতঙ্গ, দন্তাল, গয়ল, দ্বিপ, করীন্দ্র
-সূর্য=রবি, ভানু, ভাস্কর, আদিত্য, তপন, দিবাকর, সবিতা, প্রভাকর, মিহির, অংশুমালী
-হারিকিরির=আত্মহত্যা, আত্মহনন, আত্মবিসর্জন
-অগ্নি: অনল, আগুন, পাবক, হুতাশন, বহ্নি, শিখা।
-অশ্ব: ঘোড়া, ঘোটক, তুরঙ্গ, বাজী, হয়।
-অন্ধকার: তমসা, তিমির, আঁধার, তমো।
-অরণ্য: বন, জঙ্গল, কানন, অটবি, বিপিন, কানন।
-অশ্রু: চোখের জল, নেত্র বারি।
-আকাশ: গগন, অম্বর, আসমান, ব্যোম, অন্তরীক্ষ, আকাশ।
-ইচ্ছা: অভিলাষ, আকাঙ্ক্ষা, কামনা, স্পৃহা, বাসনা, ইচ্ছা।
-ঈশ্বর: প্রভু, ভগবান, জগদীশ, পরমাত্মা, সৃষ্টিকর্তা।
-উত্তম: সেরা, শ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্ট, ভালো।
-কপাল: ললাট, ভাগ্য, অদৃষ্ট।
-কাক: বায়স, করভ, কাক।
-কোকিল: পরভৃত, পিক, বসন্ত দূত।
-গঙ্গা: ভাগীরথী, জাহ্নবী, সুরধুনী, গঙ্গা।
-গৃহ: ঘর, বাড়ি, আলয়, সদন, নিকেতন, বাটি।
-চন্দ্র: চাঁদ, শশী, সুধাংশু, হিমাংশু, বিধু, সোম।
-জল: পানি, সলিল, বারি, অম্বু, উদক, নীর।
-তীর: কূল, কিনারা, তট, তীর।
-দিন: দিবস, দিনা, দিবা, অহ্ন।
-নদী: তটিনী, তরঙ্গিনী, শৈবালিনী, স্রোতস্বিনী।
-পাহাড়: পর্বত, গিরি, অচল, ভূধর, শৈল।
-পৃথিবী: ধরিত্রী, মেদিনী, বসুন্ধরা, অবনী, ধরণী।
-সমুদ্র: সাগর, সিন্ধু, জলধি, বারিধি, অর্ণব, রত্নাকর।
*দ্রষ্টব্য: কিছু ক্ষেত্রে সমার্থক শব্দগুলো হুবহু একই অর্থ প্রকাশ না করে অর্থের খুব কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে।