১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক পূর্ব বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) সংখ্যাগুরু মানুষের ভাষা বাংলার ওপর উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং বাংলা ভাষার অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পূর্ব বাংলায় ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। এই আন্দোলনের মূল ভিত্তিগুলো ছিল:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য: বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত আসার ফলে বাঙালিরা তাদের নিজস্ব সত্তা ও পরিচয় রক্ষার প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধ হয়।
- গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভাষাগত বৈষম্য: পাকিস্তানের ৫৬% মানুষের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৬% মানুষের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ।
- অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শোষণের প্রতিবাদ: ভাষা আন্দোলনের আড়ালে মূলত পূর্ব বাংলার ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।
- অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ: দ্বি-জাতি তত্ত্বের অসারতা উপলব্ধি করে ১৯৫০ সালের দাঙ্গার পর প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও ছাত্রদের যৌথ প্রচেষ্টায় ভাষা আন্দোলন একটি অসাম্প্রদায়িক রূপ নেয়
মূলত, ১৯৪৮ সালে শুরু হয়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় এবং পরবর্তীতে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে রূপান্তর হয়ে স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করে।