বাংলা ব্যাকরণে যে শব্দগুলো অন্য একটি শব্দের সম্পূর্ণ বিপরীত বা উল্টো অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোকে বিপরীতার্থক বা বিপরীত শব্দ বলে। এ ধরনের শব্দ ভাষার সৌন্দর্য, বৈচিত্র্য এবং ভাব প্রকাশের গভীরতা বাড়ায়। প্রায়শই শব্দের শুরুতে অ, অন, অপ, নি, বা দূর উপসর্গ যুক্ত করে এই শব্দ তৈরি করা হয়।
নিচে প্রয়োজনীয় বিপরীত শব্দের তালিকা দেওয়া হলো:
- আকাশ – পাতাল
- নৈসর্গিক-কৃক্রিম
- আকুঞ্চন-প্রসারণ
- প্রত্যয়-সংশয়
- কাঁচা-পাকা
- আগত – অনাগত
- আশা – নিরাশা
- ইচ্ছা – অনিচ্ছা
- উচ্চ – নিচু
- উর্বর – অনুর্বর
- ঋজু – বক্র
- ঐক্য – অনৈক্য
- কঠিন – কোমল/নরম
- কদাচার – সদাচার
- ক্লান্ত – অক্লান্ত
- খালি – পূর্ণ
- গুরু – লঘু
- গ্রহণ – বর্জন
- চঞ্চল – স্থির
- জয় – পরাজয়
- জাগরণ – শয়ন
- তীব্র – মৃদু
- দান – গ্রহণ
- দুর্লভ – সুলভ
- ধনী – দরিদ্র
- নতুন – পুরোনো
- পবিত্র – অপবিত্র/দূষিত
- ভীত – অভীত
- সজীব – নির্জীব
সংক্ষিপ্ত আলোচনা-
বিপরীত শব্দগুলো মূলত পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তৈরি হয়। যেমন, যখন 'উর্বর' (জমিতে ফসল হয়) বলা হয়, তখন তার বিপরীত 'অনুর্বর' (যেখানে ফসল হয় না) শব্দটি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করা যায়। এই শব্দগুলো বাক্যের ভাব সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী করতে সাহায্য করে, যেমন: "তিনি উচ্চ বংশে জন্মেও নিচু কাজ করেন না"।